গবেষকদের মতে একটি হাইড্রোজেল ইঞ্জেকশন স্বাভাবিক টিস্যু বৃদ্ধির হার বাড়ানোর মাধ্যমে আঘাতপ্রাপ্ত মস্তিষ্ককে পূণরায় পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারে। ইদুরের উপর পরীক্ষা ও গবেষণার ফলাফল বলে সাংশ্লেষিক ও প্রাকৃতিক উৎস থেকে প্রস্তুতকৃত জেল মস্তিষ্কের স্টেম কোষগুলোর বৃদ্ধিতে উদ্দিপক হিসেবে কাজ করে। আমেরিকার সাউথ কারোলিনার ক্লেমসন ইউনিভারসিটির ডা. নিং ঝ্যাং এই জেল উদ্ভাবন করেছেন। তিনি ধারণা করছেন আর দুই/তিন বছরের মধ্যে তা মানুষের জন্য উপযোগী করে তোলা হবে। তিনি বলেন, 'মূলত আমাদের এই কৌশল দুর্ঘটনায়, উপর থেকে পড়ে এবং গুলির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত মস্তিষ্কের চিকিৎসার জন্য'
যে কোন আঘাতের পর মস্তিষ্কের কোষের মৃত্যু হয়। এছাড়াও আঘাতের কারণে টিস্যু ফুলে উঠে এবং বিভিন্ন প্রতিরক্ষামূলক বিক্রিয়া হয় যা কোষের মৃত্যুর হারকে আরো বাড়িয়ে দেয়। ফলে পরবর্তিতে স্মৃতিভ্রম হতে থাকে। বর্তমানে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে চেষ্টা করা হয় যেন আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে তাপমাত্রা বা চাপ বেড়ে মস্তিষ্কের কোষের মৃত্যু না হয়,যদিও তা তেমন কার্যকর নয়। গবেষকরা প্রথমে মনে করেছিলেন 'দানকৃত মস্তিষ্ক কোষ' দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত কোষ্কে প্রতিস্থাপিত করলে আর ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যাবে। কিন্তু এই পদ্ধতিও খুব বেশি কার্যকর হয় নি। 'দানকৃত মস্তিষ্ক কোষ' আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে টিকতেও যেমন পারেনা তেমনই মস্তিষ্কের স্টেম কোষগুলোর বৃদ্ধিকে উদ্দিপক হিসেবে কাজ করতে পারেনা। কারণ আঘাত পাওয়ার সাথে সাথে সেখানে প্রতিরক্ষামূলক বিক্রিয়া হয়, স্কার (স্বাভাবিক কোষের বদলে ফাইব্রাস ব্যান্ড) টিস্যু তৈরী হয় এবং সবথেকে বড় কারণ হল রক্ত সঞ্চালণ সেখানে থাকেনা বলে নতুন করে মস্তিষ্ক কোষও তৈরি হতে পারেনা।
গবেষকদের মতে এই নতুন জেলের সুবিধা হল তা তরল অবস্থায় দেয়া যাবে এবং তার সাথে আর কিছু রাসায়নিক উদ্দিপক মেশান যাবে যারা বিভিন্ন জৈবনিক প্রক্রিয়াতে সহায়ক হবে। এই প্রক্রিয়ার বেশ কয়েক্তি ধাপ আছেঃ
প্রথমে ডা. ঝ্যাং এই জেলকে কাজে লাগিয়েছেন ইদুরের মস্তিষ্কে আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে রক্ত সঞ্চালন পূনঃস্থাপন করাতে, যা দানকৃত মস্তিষ্ক কোষের জন্য অত্যানুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে।
পরের ধাপে, তিনি এর সাথে অপরিনত মানব মস্তিষ্কের স্টেম কোষ ও আরো অন্যান্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক পদার্থ যোগ করেন যা থেকে পরিপূর্ণ মানব মস্তিষ্ক কোষ পাওয়া যাবে। মস্তিষ্কে প্রচন্ড আঘাতপ্রাপ্ত ইদুরের উপর এই চিকিৎসা পদ্ধতি আট সপ্তাহ ধরে দেওয়ার পরে ভাল উন্নতি পরিলক্ষিত হয়।
ডা. ঝ্যাং বলেন 'জেলে এরকম বিভিন্ন ফ্যাক্টর যোগ করে রোগীদের প্রয়োজন মাফিক উপযোগী করে তোলা যাবে।'
হেডওয়ে, দ্য ব্রেইন ইঞ্জুরি এসোসিয়েসন এর মতে এই গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্ত্বপূর্ণ এবং এক্ষেত্রে একধাপ এগিয়ে যাওয়া। আমরা এখনো এর ব্যবহারিক প্রয়োগ থেকে বেশ কয়েক বছর দূরে আবার এটাও চিন্তা করা যাবে না এর থেকে অলৌকিক কিছু পাওয়া যাবে।'
বৃহস্পতিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০০৯
টিউমার ধ্বংস করতে ন্যানোপার্টিকেল

স্বাস্থ্য নিয়ে লেখা আর গবেষণা এক অন্যরকম অনুভুতি। যেন প্রতিদিনই নিজেকে নতুন করে জানা। এ রকমি এক আশ্চর্যজনক নতুন আবিষ্কারের কথা বলছি আমার লেখা প্রথম এই ব্লগে...
ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করার জন্য ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা ক্ষুদ্র চুম্বক কণাকে ন্যানোপার্টিকেল হিসেবে ব্যবহার করার প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করছেন যা ক্যান্সার কোষকে উত্তপ্ত করে ধ্বংস করবে এবং সুস্থ কোষের কোন ক্ষতি করবে না। বিজ্ঞানীরা প্রমাণ পেয়েছেন, যদি ক্যান্সারের অ্যান্টিবডি বা স্টেম কোষের সাথে যদি আয়রন অক্সাইড ন্যানোপার্টিকেল যুক্ত করা যায় তাহলে তা সরাসরি ক্যান্সার কোষে পৌঁছে ধ্বংস করতে পারবে। "Magnetic Alternating Current Hyperthermia (MACH)" নামক যন্ত্রে ক্যান্সার কোষকে শরীরের সাধারণ তাপমাত্রা থেকে ৫-৬ ডিগ্রী সে. উত্তপ্ত করলেই মারা যায়। বিজ্ঞানীরা বলেন MACH হল মাইক্রওয়েভের মত, নির্দিষ্ট বস্তুকে তা উত্তপ্ত করতে সক্ষম।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন(UCL) থেকে আসা বিজ্ঞানীদের একটি দল বলেন, "ক্যান্সার নিরাময়ে নতুন এক দিগন্তের সূচনা হল। আমাদের একটাই লক্ষ্য- সুস্থ কোষের ক্ষতি না করে চুম্বক খন্ডকে ক্যান্সার কোষে প্রবেশ করানো।' বিজ্ঞানীরা আরো বলেন, এই কাজটি একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত তা মানুষের ক্ষেত্রে পরীক্ষিত নয়। তবে তারা ধারণা করছেন ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হবার আগে আরো কিছু সময় ধরে এর উন্নয়ন, সংস্করণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলবে। UCL এর প্রফেসর কুয়েন্টিন প্যানখার্স্ট বলেন, "আমরা আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে এর মেডিকেল পরীক্ষায় নামতে পারব।“
বিজ্ঞানীগণ বলেছেন তারা এরই মধ্যে ইঁদুরের উপর স্টেম কোষ পরিবহণে সাফল্য লাভ করেছেন। UCL এর এক বিজ্ঞানী মার্ক লিথগো বলেন, তিনি ও তার সহযোগীরা এক পরীক্ষায় দেখেছেন মেসেঙ্কাইমাল স্টেম কোষ নামের এই কোষটিকে যখন চুম্বক ন্যানোপার্টিকেল এ যুক্ত করা যায় তখন তা ফুসফুসের ক্যান্সারে সরাসরি পৌঁছে। তারা আরো বলেন, আমরা সবে মাত্র পরীক্ষা শুরু করেছি যেখানে প্রানীগুলোকে MACH যন্ত্রে নিয়ে উত্তপ্ত করে দেখা হবে ক্যান্সার কোষগুলো মারা যায় কিনা।
এছাড়াও আরো দু’টি পদ্ধতি সম্ভাবনার আলো দেখাচ্ছে। একটি হল ক্যান্সার কোষের আন্টিবডির মাধ্যমে মাথা ও গলার টিউমারে ন্যানোপার্টিকেল বহন করা এবং অপরটি হল চুম্বক ক্ষেত্র প্রয়োগ করে চুম্বকের ন্যানোপার্টিকেলটিকে শরীরের নির্দিষ্ট স্থানে ক্যান্সার কোষে নিয়ে যাওয়া। লিথগো বলেন, “আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে এই তিন পদ্ধতির মাধ্যমে ন্যানোপার্টিকেলকে কান্সার কোশে প্রবেশ করানো এবং এরপর রুগীকে MACH যন্ত্রে নিয়ে আয়রন অক্সাইডকে উত্তপ্ত করে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করা।“
আরো বিস্তারিত পাবেন http://www.rtnn.net/details.php?id=19137&p=1&s=19
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যসমূহ (Atom)