মঙ্গলবার, ৭ আগস্ট, ২০১২

এই রমাদানঃ কী করতে পারি, কীভাবে করতে পারি- শেষ পর্ব


১ম আর ২য় পর্বের পর শেষ পর্বটা লিখে গুছিয়ে উঠতে একটু সময়ই নিলাম। আল্লাহ আমাকে কিছু নিদর্শন দেখাবেন বা জানাবেন বলেই হয় তো আমার এই সময় নেওয়া। গতপরশু রাতেই আমরা যেখানে থাকি তার পাশের বস্তি থেকে কান্না আর হাহুতাশের শব্দ ভেসে আসছিল, ফজরের নামাযের যাওয়ার সময় আমাদের বিল্ডিংয়ের পাশের মাঠে দেখলাম একটা লাশ দাফনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এরপর সকালের দিকে পেলাম আরেকটি খবর- আমার খুব কাছের এক বন্ধুর বাবা গত মাসে রোজা শুরু হওয়ার কিছু দিনের মাথায়ই স্ট্রোক করেছেন, এখন চিকিৎসাধীন। এরো কয়েকদিন আগে এক আঙ্কেলের কাছ থেকে জানালেন তিনি ডিহাইড্রেশন আর এরপর অ্যানাফাইলাক্টিক শকে যাওয়ার কারনে রোজা রাখতে পারছেন না বেশ কিছুদিন ধরে। (আল্লাহ তাদেরকে সুস্থ্য করে তুলুন, আমীন)  এই তিনটি ঘটনায় আমার চিন্তা আসল, আমি কি ইনশাআল্লাহ সুস্থ্য ও সবল থেকে এই রমাদানের সকল রোজা শেষ পর্যন্ত করতে পারব তো? আগামী রমাদান কি পাব? আল্লাহু আ’লাম! আল্লাহ আমাদের সকলকেই সেই সামর্থ দান করুন

কর্মক্ষেত্র বা স্কুল-কলেজ ভার্সিটি থেকে আসার পথে ঢাকা শহর বা জ্যামযুক্ত শহরের বদৌলতে জ্যামের মধ্যে যে অলস সময় পাওয়া যায়, তার এই সময়টুকু কোন সুরার তিলাওয়াত/ তাফসীর/ মুখস্থ করার জন্য শুনতে শুনতে আসতে পারা যায়। বাসায় আসার পর স্বাভাবিক ভাবেই নেতিয়ে পড়ে শরীরটা।  রিফ্রেশ হয়ে সামান্য বিশ্রাম নিয়ে ইফতারের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করতে হবে।

ইফতারের আগের সময়টা খুবই একটা তাৎপর্যপূর্ন সময় বটে। যে কয়টা সময়ে আল্লাহ দুয়া কবুল করার জন্য এগিয়ে আসেন এই সময়টা তার মধ্যে একটা। কিন্তু অধিকাংশ সময়েই দেখা যায় ইফতারের যোগার আর ব্যবস্থা করতে করতে এই সময়টা হারিয়ে ফেলি। আবার এক সাথে যখন অনেকে হোস্টেল/ হল/ মেসে ইফতারে বসেন তখন ইফতারের আগ পর্যন্ত দেখা যায় আড্ডা আর কথাবার্তায় শেষের দারুন এই সময়টা হারিয়ে যায়। একটু সতর্ক হলেই আমরা কিন্তু এই সুযোগটা লুফে নিতে পারি। শুধু কি দুয়া করে আল্লাহর কাছে চাওয়া, সেই সাথে এমন কোন জানা গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও মাফ চাওয়া, আমার যেই সকল নামায/ ইবাদত কবুল হওয়ার ব্যাপারে আমার সন্দেহ আছে সেগুলোর ব্যাপারেও কিন্তু আল্লাহর কাছে চেয়ে কবুলিয়াত আদায় করে নিতে পারি ইফতারির আগ মুহুর্তে! 

ইফতারের সময়, মাশাআল্লাহ! খেজুর বা শরবত যাই দিয়ে সুন্নত অনুসারে শুরু করি না কেন খাদ্য যে আল্লাহর কত বড় নিয়ামত বুঝা যায় ঠিক সেই সময়ে! সুবাহানাল্লহি ওয়াবিহামদিহি
কিন্তু এখানে আবার বিপত্তিও আছে! রমাদানের প্রথম দশক যেতে না যেতেই আমার আশে পাশের অধিকাংশ লোকজনকে দেখেছি এই পেটের বিপত্তিতে পড়তে।  বিপত্তিটা ঘটে দুইটা উপায়ে- আপনার শান্ত থেকে অশান্ত থাকা স্টোমাকে একসাথে ভাজা পোড়া ঢেলে দিয়ে অ্যাসিডের অবিরাম দহনে জ্বালানী বাড়ানো- আসিডিটি আর অনেক্ষন ধরে কিছু না পাওয়া কিছুতে অনেক বোঝা চাপিয়ে তাকে বিগড়িয়ে দেওয়া- বদহজম। এর থেকে পরিত্রাণের উপায় হলো, ভাজা পোড়া একেবারেই এড়িয়ে চলা আর একবারে সব গলধকরণ না করে ধীরে ধীরে সময় নিয়ে খাওয়া, আর বেশী বেশী বেশী করে পানি খাওয়া। 

ছবির মত এমন যেন না হয়! মধ্যপ্রাচ্য সহ ইউকে তেও দেখেছি একটা ভালো পদ্ধতি, শুধু শরবত, পানি আর খেজুর দিয়ে ইফতারী সেরে মাগরীব শেষে রাতের নরমাল যা খেতে অভ্যস্থ তা খেয়ে নেওয়া। এতে তারাবীর আগেই পেট হালকা হয়ে যায় আর শরীরো ভালো থাকে।

তারাবীর আগে ভালো হয় যদি জেনে নিতে পারেন, আজ কোন সুরা পড়া হচ্ছে, কী বলা হয়েছে সূরাগুলোতে, আমাদের জন্য কি জানার আর মানার আছে। তাহলে ভালো মনযোগ আর মজাও আসবে তারাবী পড়তে।  এই পেজের নোটগুলোতে ১৬ থেকে ৩০ পারার তারাবী অনুযায়ী সারাংশ দেওয়া আছে

তারাবী নিয়ে কথা বলতে গেলে ভয় হয় :s। কোথা থেকে কেউ এসে ৮ রাকাত না ২০, জামাতে না একাকী পরা যাবে এটা নিয়ে তর্ক লাগাবেন না প্লিজ! আট বা বিশ, জামায়াত বা একাকী সব ক্ষেত্রেই সহীহ ও হাসান হাদীস আছে, সবভাবেই আদায় করা যায়। আলহামদুলিল্লাহ, এই একমাসের তারাবী পড়তে পড়তে ক্বিয়ামুল লাইলের যে অভ্যাস হয়েছে তা ইচ্ছা করলেই তা আমরা সারা বছর অব্যাহত রাখতে পারি। উস্তাদ উমর সুলাইমান এই অভ্যাস আয়ত্ব করার একটা সুন্দর পদ্ধতির কথা বলেছেনঃ
"এটা অবশ্যই দারুন যে আপনি রমাদানের প্রতিদিন তারাবীহ মসজিদে আদায় করছেন। সাথে সাথে বাসায় যেয়েও একাকী কিছু অতিরিক্ত নামায যেন পড়েন এটাও নিশ্চিত করেন। রমাদান শেষে তারাবীহ পড়া বন্ধ হলেও আপনার সেই দুই রাকাত নামায এতে চলতেই থাকবে, ইনশাআল্লাহ" 

আর সবার শেষে আল্লাহ রেখে দিয়েছেন রমাদান কেন, সারা বছরের মধ্যে সব থেকে দামী সময়টা, ক্বদরের রাত। আল্লাহ আমাদের সকলকে সেই রাতের জন্য কবুল করুন। ক্বদর কবে হবে তার সব থেকে ভালো উত্তর হলো "আল্লাহ জানেন", তাই আমিও রিস্ক নিব কেন! আর রমাদানের প্রতিটি রাতই বছরের অন্যসকল রাতের থেকে বেশী মূল্যবান। শুধু এক ২৭ এর দিকে তাকিয়ে না থেকে উচিৎ রমাদানের শেষের সকল বিজোড় রাতকে ক্বদর পাওয়ার জন্য কাজে লাগানো। এখন থেকেই পরিকল্পনা করুন কী কী করবেন সেই রাতগুলোতে, কতবেশী সময় বের করতে পারেন তার জন্য এখনই কাজ শুরু করুন।
 মনে রাখবেন এই রাত কিন্তু হাজার রাতের থেকেও উত্তম আর আমার আপনার জীবন তো এক শতকই পার হবে কিনা আল্লাহু আ'লাম! তাই কোন দুঃখে এই সুযোগ হারাবো?
হারাতে যেন না হয় এজন্য শায়খ নাভাইদ আযিযের পরামর্শটা দারুন লেগেছেঃ
"রমাদানের জন্য কয়েকটা দারুন কৌশলঃ
১। এমন একটি গুনাহ/ খারাপ অভ্যাস (যা আপনি সচরাচর করেন) কে বেছে নিন, সম্পূর্ণ ত্যাগ করার জন্য
২। আজ থেকে রমাদানের শেষ ১০ রাতের আগ পর্যন্ত ৫/ ১০ টাকা করে জমান
৩। জমানো অর্থকে ১০ রাতের জন্য ভাগ করেন এবং আপনার ইচ্ছামত অভাবী মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিন
এতে লাভঃ
১। প্রায় ২১ দিন যথেষ্ট একটি খারাপ অভ্যাসকে ত্যাগ করার জন্য। আর সেই খারাপকে প্রতিস্থাপন করুন দানের অভ্যাস গড়ার মাধ্যমে
২। একটি গুণাহ থেকে আপনি নিস্তার পেলেন
৩। আর অবশ্যই, আপনি পেলেন সেই হাজার রাতের থেকেও শ্রেষ্ঠ রাত ''লাইলাতুল ক্বাদর", এবং তা দান করে মানুষকে সাহায্যের মাধ্যমে
এই কথাটা ছড়িয়ে দিন সকলের মাঝে, আর তাদের অর্জিত সওয়াবের মালিক হোন তাদেরকে জানানোর মাধ্যমে..."
( তিনি এটি প্রথম রমজানের আগের দিন শেয়ার করেছিলেন, আজ ১৪ রমজান, আছে আর ৬ দিন)

তবে দিন শেষে প্রতি রমাদানে আমাদের মনে হয় নিজেদের একটা খতিয়ান নিতে পারলে রমাদানের পরবর্তী দিনগুলোকে আরো ভালো করতে পারব ইনশাআল্লাহ। আমি কিছু প্রশ্ন শেয়ার করছি নিজেকে করার জন্য, আপনারাও যোগ করেন...

১। আমি নামাযে কী মনযোগ ও আন্তরিকতা বাড়াতে পেরেছি এই রমাদানে
২। রমাদান শুরুর আগের আমি আর এখনকার আমির মাঝে ইতিবাচক কোন পরিবর্তন করতে পেরেছি কি?
৩। আমার কুরআন তিলাওয়াত কি আমি আরো সহীহ শুদ্ধ করতে পারলাম?
৪। কুরআনের যে জ্ঞান আর তার প্রয়োগ রমাদানের আগে যা ছিল তার থেকে বাড়াতে পেরেছি কী? আরো কি বাড়াতে পারি না?
৫। আমার আচরণ, কথা আর লেনদেনে কী রমাদান শুরুর আগের থেকে উন্নত হয়েছে? কুরআন আর রাসূল (সা) সুন্নতময় কী হয়েছে? 
৬। আজকে আমার রমাদান কেন্দ্রিক যে পরিকল্পনা ছিল, তার কতটুকু করতে পারলাম? 
৭। যে গুনাহ বা খারাপ কাজে আমি অভ্যস্থ তা কী আমি ছেড়ে দিতে পারছি? 
৮। আরো কী করতে পারি কাল থেকে যাতে আমার রমাদান আরো ভালো হতে পারে
৯। প্রতিটি কাজে কী আমার আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা কী রমাদান শুরুর আগের থেকে বাড়াতে পেরেছি?
১০। আল্লাহর প্রতি তাক্বওয়া/ ভয় কী আমার সকল চালচলন কাজে ও চিন্তায় অর্জিত হয়েছে, যার অর্জনই এ রমাদানের উদ্দেশ্য?
আর সর্বশেষ...
আমি কী আল্লাহর কাছে দাঁড়িয়ে এখনই জবাবদিহি করতে প্রস্তুত?  

আজকের ছবিঃ প্রত্যেক রমজান শেষ হলেই মনে হয় কী যেন হয় নাই, আনাচান করে মন আবার কবে আসবে... েএকবার মনে আছে টিভীতে ঈদের চাঁদ দেখা গেছে ঘোষনা দেওয়ার পর চোখে পানি চলে এসেছিল। কতই না সুন্দর হয়ে যায় রমাদানে আমাদের পরিবেশ, আবার কোথায় যেন তা হারিয়ে যায়...











































এই রমাদানের ভিডিওঃ  রমাদান ও জীবন কেন্দ্রিক এমন কিছু ভিডিও লিঙ্ক দিচ্ছি যা আপনার মনকে নাড়া দিবে...





  

এই রমাদানে যা অর্জন করলাম আমরা তা আজীবন ধরে রাখার ও আরো উন্নতি করার প্রতিজ্ঞা করি। আল্লাহ আমাদের সকলের রমাদানকে পূর্ণ ও সফল করে তুলুন, আমাদের সকলকে সেই মঞ্জিলে মাকসুদ, জান্নাতুল ফিরদাউসে পৌঁছানোর জন্য যোগ্য করে তুলুন, কবুল করুন- এই রমাদানেই, আমীন। সকলের কাছে এই দুয়া চেয়ে শেষ করছি এই অধমের রমাদান সিরিজ


এই রমাদানঃ কী করতে পারি, কীভাবে করতে পারি- ২


রমাদানের দিনের সময়টা চলে যায় কাজের মধ্যে। এর জন্যই হয় তো আল্লাহ রাতে এত কিছু জমিয়ে রেখেছেন আমাদের জন্য। তারপরও ইচ্ছা করলেই এই দিনের সময়টা থেকেও রহমতের উপাদান গুলো কুড়িয়ে নেওয়া যায়। প্রয়োজন ইচ্ছার আর সামান্য কিছু সতর্কতার। গত কয়েকদিনে আমার রমাদানের সকালগুলো যেভাবে কেটেছে তার "সুযোগ থেকেও না করতে পারা" আর অন্য কয়েকজনের থেকে জ্ঞাত অভিজ্ঞতার আলোকেই এই পর্যালোচনা।  

ঘুম থেকে উঠে স্বাভাবিকবভাবেই দিনের শুরুটা হয় খুব ব্যতিব্যস্ততার মধ্য দিয়ে। হোক তা কর্মস্থলে বা কলেজ ভার্সিটিতে যাওয়ার জন্য যুদ্ধ। সাহারি পরবর্তী ঘুমের রেশ আর সময়ের মাঝে লাগে মারামারি। কিন্তু এই সময়ের কিছু কাজই আমাদের দিনের পরবর্তী সময়গুলোকে আরো সোজা করে দিতে পারে। বেশি কিছু না খালি কিছু জিনিস/ উপকরন সাথে নেওয়া। হতে পারে তা ছোট একটি কুরআন শরীফ। আর মোবাইলেই এম্পি থ্রি এর সুবিধা থাকলে তো কথাই নেই। কুরআনের তিলাওয়াত বা তাফসীর লোড করে নিলে আর সাথে একটা ছোট নোট বই নিলে কাজে লাগবে ভবিষ্যতে। যাওয়ার আগে এই ছোট কাজটি করে নেওয়ার কথাটা মাথায় রাখলে ভালো, না রাখলে আরো ভালো :P
কর্মস্থলে বা কলেজ ভার্সিটিতে যাওয়ার সময় যদি ভালো পরিবেশ পাওয়া যায় তবে সেই সুযোগও কাজে লাগানো যেতে পারে কুরআন বা হাদিস বা তাফসীরের সাথে।

কর্মস্থলে বা কলেজ ভার্সিটিতে ঢুকেই আমাদের সংগী হয় কাজ, ক্লাস, লেকচার আর বন্ধুবর্গ বা কলিগ। কাজের ফাঁকে, দুই লেকচারের/ ক্লাসের মাঝের সময়কে কাজ লাগাতে পারা যায় খুব সহজেই। সুযোগ পেলেই হাতে কুরআন নিয়ে পড়া শুরু করা বা কানে হেডফোন লাগিয়ে তিলাওয়াত মনকে যেমন ফ্রেশ করবে তেমনি আনবে অনেক সওয়াব আর শিক্ষা।

হালাল আড্ডা জমাতে পারলে তো দারুন হয়। প্রতিদিনই কাজের ফাকে বন্ধু- কলিগেরা খোশ গল্পে মেতে উঠি। এসময় যদি টপিকটা রমাদান উপলক্ষে ইসলামের উপর করতে পারা যায় তবে তা দারুন হয়। সেক্ষেত্রে ইসলামের সৌন্দর্য আর সুন্দর জান্নাতি ব্যক্তি সমাজ গঠনে ইসলামের ভুমিকা, আমাদের করণীয়, রাসূল (সা)- সাহাবীদের সেই অনুকরণীয় উদাহরন গুলো হতে পারে এর রসদ!  
এছাড়াও পাশে থাকা কলিগ বা বন্ধু সহই তিলাওয়াত/ তাফসীর শুনা বা তাদের সাথে কুরানের কোন আয়াত বা তাফসীরের বিষয় নিয়ে নিয়ে আলোচনা করে সওয়াবটা ডাবল, ট্রিপল করার অসাধারণ এক সুযোগও আছে। আর ফাঁকে ফাঁকে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো নোট করে রাখা যায় ভবিষ্যতের জন্য।

যখন হবে যোহর আর আসরের সময় তখন যত জনকে পারি সাথে করে নিয়ে যাব মসজিদে বা নামাযের ঘরে। তাদের সব নামাযের সওয়াবও আমার :) নামায আদায়ের পর ৫ মিনিটের জন্য বসে জেনে নিলাম এক দুইটি হাদিস বা মাসয়ালা মাসায়েল


ভালো কাজের প্রতিদান বাড়তির উপর বাড়তিই আমরা পেতে থাকি রমাদানে। তাই এই সময়ে ভালো কোন উদ্যোগ নেওয়াটাও বাড়তি সাওয়াবের। বন্ধু বা কলিগদের নিয়ে একসাথে নেওয়া যায় এই উদ্যোগ। সবাই মিলে ইফতারি করাতে পারি দুঃস্থ দের, সামনে আসছে ঈদ- আমাদের আশে পাশের যাদের অসামর্থবান তাদের জন্য ঈদের উপহারের ব্যবস্থা থেকে শুরু করে ছোট ছোট ভালো কাজ ব্যাপকভাবে সালামের প্রচলন করা, কলম এগিয়ে দেয়া,  বিদ্যুৎ- পানি ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়া সহ যত ভালো কাজ করা যায় ব্যক্তিগতভাবে আর সামষ্টিকভাবে 

তারাবীর সাথে মিলিয়ে যদি কুরআনের অধ্যয়নটা করা যায় তবে অনেকটা মজা লাগবে তারাবী পড়তেও।
তার থেকেও বড় কথা কুরআন বা হাদিস যাই পড়ি তা যেন পড়ি মন দিয়ে, নুসরাত আপুর উদাহরণ দুটাই বলে দেয় অনেক কিছু,  দেয় উৎসাহওঃ
- "সূরা নাবা নিয়ে পড়াশুনা করার পর থেকে চেষ্টায় ছিলাম সূরাটা মুখস্ত করার। কাজ করার সময়, লেখার সময়, ঘুমানোর আগে, ঘুমের মধ্যে মিশারি রশীদ এর তিলাওয়াত শুনতে শুনতে এখন আলহামদুলিল্লাহ ১০০% সুর আর ৮০% শব্দ মুখস্ত হয়েছে :D"
- "সংযম আর আত্মশুদ্ধির একটা ছোট্ট প্র্যাক্টিস করতে পারি আমরা। ওযু করার সময় পানির কলটা পুরো সময় ছেড়ে না রেখে একটা মগ এ পানি নিয়ে ওযু করতে পারি। এতে অনেকখানি সাশ্রয় হয়, আর আমাদেরও একটা অপচয় প্রবণতা দূর হয়।"

এইভাবেই হয় তো কাজের আর পড়াশুনার ভীড়ে ছোট ছোট সময়গুলোকে অসামান্য করে তুলতে পারি নিজেদের জন্য। 
এই সময়ে সব থেকে বেশী রাখতে হবে মাথায় কথায়, কাজে, বন্ধু- কলিগ সবার সাথে আচরণে- ডিলিংসে কুরআন- হাদিস থেকে যা শিখলাম তার প্রয়োগ হচ্ছে নাকি। আগের নোটে এর উদাহরণ দিয়েছি। ওস্তাদ খুররম যাহ মুরাদের কথাটা মনে রাখার মতঃ
"কেউ যদি কুরআনের শরণাপন্ন হওয়া সত্ত্বেও অন্তরে সংস্পর্শ না লাগে,হৃদয় আলোড়িত না হয়,জীবন অপরিবর্তিত থেকে যায়,খালি হাতে ফিরেন,যেভাবে এসেছিলেন ঠিক সেভাবেই প্রত্যাবর্তন করেন,তাহলে তার চেয়ে মর্মান্তিক দুর্ভাগ্য আর কি হতে পারে?"

(যদি কোন/ কয়েকটি নির্দিষ্ট সুরা নিয়ে পড়াশুনা করতে চান, তাহলে "বাইয়িনাহ পোডকাস্টের" উস্তাদ নুমান আলী খান আর শায়খ আব্দুল নাসিরের তাফসীরগুলো কাজে দিবে।)

আর আজকের ছবিঃ
এত্তগুলা সময় কিভাবে যেন বয়ে যায়... 

এই রমাদানঃ কী করতে পারি, কীভাবে করতে পারি- ১


গতকাল মাগরিবের নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বের হতেই হঠাৎ করে মনে হলো- রমাদানের তো তিনটা দিন চলে গেল, মানে রমাদানের এক দশমাংশ আর রহমত বা বারাকাত অর্জনের এক তৃতীয়াংশ চলে গেল! কিন্তু কি রহমত আর বারাকাত নিতে পারলাম আল্লাহর কাছ থেকে, একেবারে শূণ্যের কোঠায় তা। পরক্ষনেই আবার মনে হোল, চলে গেল তো আমার বেখেয়ালে কিন্তু আর হাহুতাশ করে লাভ কী? তার থেকে বরং বাকি সময়টুকু যা আছে তার জন্য নিজের কাজগুলোকে সেভাবে গুছিয়ে নিলে আর পরিকল্পনা করে নিলেই কাজের কাজ হয়তো কিছু হবে ইনশাআল্লাহ। এই উপলব্ধি আর পরিকল্পনা থেকেই আমার এই নোট লিখতে বসা। অন্তত সকলের সাথে শেয়ার করে আরো কিছু জানা আর কোন সংশোধন থাকলে সেই সুযোগে ঠিক করে নেওয়া।

রমজান যে কত বড় সুযোগ আমাদের সামনে আনে তা বলার অপেক্ষা রাখে না! কিন্তু যে সমস্যাটি গত বেশ কয়েক বছর ধরে দেখছি তা হলো রমাদানের সময় হঠাৎ করে রুটিন, শারীরিক, মানসিক আর নিত্যদিনের কাজকর্মের পরিবর্তনে মানিয়ে নিতে তালগোল পাকিয়ে যায়। আর আগে থেকে পরিকল্পনা না থাকলে তার অবস্থা হয় আরো ভয়াবহ! রহমতের দিনগুলো হারিয়ে যায়... রমাদান শুরুর আগে বা প্রথম থেকে অনেক পরিকল্পনাই আসে মাথায় কিন্তু শেষে যেয়ে দেখা যায় হয়েছে খুবই কম। তাই "কি কি করা যায়" এর থেকে লেখায় বেশি গুরুত্ব পাবে "কখন কিভাবে করা যায়"। লেখাটা "সেলফ রিমাইন্ডার"। এর সব সঠিক ধরার কিছু নেই, কারোর যদি আরো ভালো কোন চিন্তা থাকে বা সংশোধন থাকে তাহলে তা জরুরি ভিত্তিতে জানাবেন

যাই হোক আপাতত রমাদানের এক নিত্যদিনের সারাটা দিন কোন কাজটা কিভাবে করা যায়, তার একটা ছক এভাবে সাজানো যায়ঃ

ভোর রাতের সাহরি দিয়েই শুরু করিঃ এ একটা দারুন সময়!! অনেক সময় গড়িমসি করে দেরী করে ফেলি, তাড়াহুড়া করে সাহরী করি আর এই সময়ের মূল্যবান উপহারটা মিস করে ফেলি। তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করার একটা সুবর্ন সুযোগ থাকে এই সময়ে। সুবহে সাদিকের বা সাহরির শেষ সময়ের আগ পর্যন্ত  এই সুযোগটা থাকে আমাদের হাতে। সাহরী করতে আরো একটু ৫-১৫ মিনিট (স্বাভাবিক যে সময়ে উঠি তার) আগে উঠলেই আমরা এই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারি, ইনশাআল্লাহ

সাহরির পর অনেকে ঘুম দেন আবার অনেকে জেগে থাকেন। জেগে থাকলে অন্য কোন কাজে হাত দেওয়ার আগেই কুরআনের তিলাওয়াত আর অধ্যয়নটা সেরে নেওয়া যায়। নির্ঝঞ্ঝাট এক সময় এটি। ভোরের স্নিগ্ধ মনোমুগ্ধকর পরিবেশে গলা ছেড়ে কুরআন তিলাওয়াত! সত্যি এক অসাধারণ অনুভূতি আর ঈমানী দীপ্তিকারী চেতনার সৃষ্টি করে।
আরেকটা কারণে এই সময়টাতে দ্বীনি পরাশুনাটা খুব ইফেক্টিভ। যা পড়লাম কুরআন আর হাদিস থেকে ঠিক করে নিব যেন সারাদিন তার চর্চাটা করতে পারি, নিজের আচরণে বা কাজে সারাটাদিন কুরআন/ হাদিস থেকে শিখে নেওয়া বিষয়/ নির্দেশটা প্রয়োগ করতে পারি। মনের মাঝে এই প্রতিজ্ঞা আমাদের জান্নাতের পথে এগিয়ে দিতে পারে অনেক দূর ইনশাআল্লাহ

একটা উদাহরণ দেই,
ধরুন, কুরআনে পড়লাম সুরা আন নূরের কিছু অংশ যেখানে আছে "তুমি মুমিন পুরুষদের বলো যে তারা তাদের দৃষ্টি অবনত করুক" (আয়াতঃ ৩০)। এরপর রাস্তা ঘাটে, স্কুল-কলেজ- অফিসে যেখানেই যাই না কেন এরকম পরিস্থিতির সৃষ্টির সাথে সাথেই নিজের চোখের হেফাযত করলাম আর বারবার করে মনে করলাম এই আয়াতগুলো আর তার তাফসীরের কথাগুলো।
অথবা,
পড়লাম সুরা মু'মিনুনের প্রথম অংশ, যেখানে আছে "মুমিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে, যারা নিজেদের নামাযে বিনয়-নম্র, যারা অনর্থক কথা-বার্তায় লিপ্ত নয়"
আর নামাযের সময়টাকে বা বন্ধু বা কলিগের সাথে কথা বলার সময়টাতে এর অভ্যাস গড়ে তুললাম। কথা বললাম, যা আমাদের সবারই উপকারে আসে, কোন ইফেক্টিভ উদ্যোগ নিয়ে কথা বললাম। রসিকতা করলাম কিন্তু বাধ ছাড়া হাসি ঠাট্টা নয়।

আর তিলাওয়াত করার জন্য প্রতি অক্ষরে তো ১০ নেকি + আরো রমাদান বোনাসের ৭০গুণ সাওয়াবতো আছেই... হারাবো কেন এই সুযোগ!

 এভাবে ইনশাআল্লাহ, ৩০ দিনে যদি ৩০টা ইসলামী আচরণকে বা চেতনাকে আমার মাঝে আয়ত্ব করতে পারি তাহলে এক কথায় "আলহামদুলিল্লাহ"।

আজকের ছবি

মঙ্গলবার, ২৭ মার্চ, ২০১২

আমারই নাম


আজ আসি আসি করেও আসি না
আজ যাই যাই করেও যাই না
আজ ছুঁই ছুঁই করেও ছুঁই না
সময়ের কাছে আমি অপেক্ষায়
অনেকের বা কাছের জানালায়
মৃদুমন্দ হাওয়া
আমায় দেয় যে ঠেলা
কিন্তু...
নিয়তির কাছে লেখা
আমার আসা আর যাওয়া
আমি কখনো বিভীষিকাময়
কখনো বা আবার বিনম্র শান্তিময়
আমি সমুদ্র তটের তীব্র জোয়ার
দোলা দেই সুউচ্চ দৃঢ় মৌন পাহাড়
ছোট ছোট করে গড়ে তুলি পর্বত সমান
সব ফেলে...

ক্ষীণ সময়ে পাড়ি দেই আসমান প্রমাণ
আমার নাম জীবন আবার আমারই নাম মৃত্যু
এরপর নিয়ে থাকি নিয়ে মোর যত কৃত্য