মঙ্গলবার, ৭ আগস্ট, ২০১২

এই রমাদানঃ কী করতে পারি, কীভাবে করতে পারি- ২


রমাদানের দিনের সময়টা চলে যায় কাজের মধ্যে। এর জন্যই হয় তো আল্লাহ রাতে এত কিছু জমিয়ে রেখেছেন আমাদের জন্য। তারপরও ইচ্ছা করলেই এই দিনের সময়টা থেকেও রহমতের উপাদান গুলো কুড়িয়ে নেওয়া যায়। প্রয়োজন ইচ্ছার আর সামান্য কিছু সতর্কতার। গত কয়েকদিনে আমার রমাদানের সকালগুলো যেভাবে কেটেছে তার "সুযোগ থেকেও না করতে পারা" আর অন্য কয়েকজনের থেকে জ্ঞাত অভিজ্ঞতার আলোকেই এই পর্যালোচনা।  

ঘুম থেকে উঠে স্বাভাবিকবভাবেই দিনের শুরুটা হয় খুব ব্যতিব্যস্ততার মধ্য দিয়ে। হোক তা কর্মস্থলে বা কলেজ ভার্সিটিতে যাওয়ার জন্য যুদ্ধ। সাহারি পরবর্তী ঘুমের রেশ আর সময়ের মাঝে লাগে মারামারি। কিন্তু এই সময়ের কিছু কাজই আমাদের দিনের পরবর্তী সময়গুলোকে আরো সোজা করে দিতে পারে। বেশি কিছু না খালি কিছু জিনিস/ উপকরন সাথে নেওয়া। হতে পারে তা ছোট একটি কুরআন শরীফ। আর মোবাইলেই এম্পি থ্রি এর সুবিধা থাকলে তো কথাই নেই। কুরআনের তিলাওয়াত বা তাফসীর লোড করে নিলে আর সাথে একটা ছোট নোট বই নিলে কাজে লাগবে ভবিষ্যতে। যাওয়ার আগে এই ছোট কাজটি করে নেওয়ার কথাটা মাথায় রাখলে ভালো, না রাখলে আরো ভালো :P
কর্মস্থলে বা কলেজ ভার্সিটিতে যাওয়ার সময় যদি ভালো পরিবেশ পাওয়া যায় তবে সেই সুযোগও কাজে লাগানো যেতে পারে কুরআন বা হাদিস বা তাফসীরের সাথে।

কর্মস্থলে বা কলেজ ভার্সিটিতে ঢুকেই আমাদের সংগী হয় কাজ, ক্লাস, লেকচার আর বন্ধুবর্গ বা কলিগ। কাজের ফাঁকে, দুই লেকচারের/ ক্লাসের মাঝের সময়কে কাজ লাগাতে পারা যায় খুব সহজেই। সুযোগ পেলেই হাতে কুরআন নিয়ে পড়া শুরু করা বা কানে হেডফোন লাগিয়ে তিলাওয়াত মনকে যেমন ফ্রেশ করবে তেমনি আনবে অনেক সওয়াব আর শিক্ষা।

হালাল আড্ডা জমাতে পারলে তো দারুন হয়। প্রতিদিনই কাজের ফাকে বন্ধু- কলিগেরা খোশ গল্পে মেতে উঠি। এসময় যদি টপিকটা রমাদান উপলক্ষে ইসলামের উপর করতে পারা যায় তবে তা দারুন হয়। সেক্ষেত্রে ইসলামের সৌন্দর্য আর সুন্দর জান্নাতি ব্যক্তি সমাজ গঠনে ইসলামের ভুমিকা, আমাদের করণীয়, রাসূল (সা)- সাহাবীদের সেই অনুকরণীয় উদাহরন গুলো হতে পারে এর রসদ!  
এছাড়াও পাশে থাকা কলিগ বা বন্ধু সহই তিলাওয়াত/ তাফসীর শুনা বা তাদের সাথে কুরানের কোন আয়াত বা তাফসীরের বিষয় নিয়ে নিয়ে আলোচনা করে সওয়াবটা ডাবল, ট্রিপল করার অসাধারণ এক সুযোগও আছে। আর ফাঁকে ফাঁকে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো নোট করে রাখা যায় ভবিষ্যতের জন্য।

যখন হবে যোহর আর আসরের সময় তখন যত জনকে পারি সাথে করে নিয়ে যাব মসজিদে বা নামাযের ঘরে। তাদের সব নামাযের সওয়াবও আমার :) নামায আদায়ের পর ৫ মিনিটের জন্য বসে জেনে নিলাম এক দুইটি হাদিস বা মাসয়ালা মাসায়েল


ভালো কাজের প্রতিদান বাড়তির উপর বাড়তিই আমরা পেতে থাকি রমাদানে। তাই এই সময়ে ভালো কোন উদ্যোগ নেওয়াটাও বাড়তি সাওয়াবের। বন্ধু বা কলিগদের নিয়ে একসাথে নেওয়া যায় এই উদ্যোগ। সবাই মিলে ইফতারি করাতে পারি দুঃস্থ দের, সামনে আসছে ঈদ- আমাদের আশে পাশের যাদের অসামর্থবান তাদের জন্য ঈদের উপহারের ব্যবস্থা থেকে শুরু করে ছোট ছোট ভালো কাজ ব্যাপকভাবে সালামের প্রচলন করা, কলম এগিয়ে দেয়া,  বিদ্যুৎ- পানি ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়া সহ যত ভালো কাজ করা যায় ব্যক্তিগতভাবে আর সামষ্টিকভাবে 

তারাবীর সাথে মিলিয়ে যদি কুরআনের অধ্যয়নটা করা যায় তবে অনেকটা মজা লাগবে তারাবী পড়তেও।
তার থেকেও বড় কথা কুরআন বা হাদিস যাই পড়ি তা যেন পড়ি মন দিয়ে, নুসরাত আপুর উদাহরণ দুটাই বলে দেয় অনেক কিছু,  দেয় উৎসাহওঃ
- "সূরা নাবা নিয়ে পড়াশুনা করার পর থেকে চেষ্টায় ছিলাম সূরাটা মুখস্ত করার। কাজ করার সময়, লেখার সময়, ঘুমানোর আগে, ঘুমের মধ্যে মিশারি রশীদ এর তিলাওয়াত শুনতে শুনতে এখন আলহামদুলিল্লাহ ১০০% সুর আর ৮০% শব্দ মুখস্ত হয়েছে :D"
- "সংযম আর আত্মশুদ্ধির একটা ছোট্ট প্র্যাক্টিস করতে পারি আমরা। ওযু করার সময় পানির কলটা পুরো সময় ছেড়ে না রেখে একটা মগ এ পানি নিয়ে ওযু করতে পারি। এতে অনেকখানি সাশ্রয় হয়, আর আমাদেরও একটা অপচয় প্রবণতা দূর হয়।"

এইভাবেই হয় তো কাজের আর পড়াশুনার ভীড়ে ছোট ছোট সময়গুলোকে অসামান্য করে তুলতে পারি নিজেদের জন্য। 
এই সময়ে সব থেকে বেশী রাখতে হবে মাথায় কথায়, কাজে, বন্ধু- কলিগ সবার সাথে আচরণে- ডিলিংসে কুরআন- হাদিস থেকে যা শিখলাম তার প্রয়োগ হচ্ছে নাকি। আগের নোটে এর উদাহরণ দিয়েছি। ওস্তাদ খুররম যাহ মুরাদের কথাটা মনে রাখার মতঃ
"কেউ যদি কুরআনের শরণাপন্ন হওয়া সত্ত্বেও অন্তরে সংস্পর্শ না লাগে,হৃদয় আলোড়িত না হয়,জীবন অপরিবর্তিত থেকে যায়,খালি হাতে ফিরেন,যেভাবে এসেছিলেন ঠিক সেভাবেই প্রত্যাবর্তন করেন,তাহলে তার চেয়ে মর্মান্তিক দুর্ভাগ্য আর কি হতে পারে?"

(যদি কোন/ কয়েকটি নির্দিষ্ট সুরা নিয়ে পড়াশুনা করতে চান, তাহলে "বাইয়িনাহ পোডকাস্টের" উস্তাদ নুমান আলী খান আর শায়খ আব্দুল নাসিরের তাফসীরগুলো কাজে দিবে।)

আর আজকের ছবিঃ
এত্তগুলা সময় কিভাবে যেন বয়ে যায়... 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন