গতকাল মাগরিবের নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বের হতেই হঠাৎ করে মনে হলো- রমাদানের তো তিনটা দিন চলে গেল, মানে রমাদানের এক দশমাংশ আর রহমত বা বারাকাত অর্জনের এক তৃতীয়াংশ চলে গেল! কিন্তু কি রহমত আর বারাকাত নিতে পারলাম আল্লাহর কাছ থেকে, একেবারে শূণ্যের কোঠায় তা। পরক্ষনেই আবার মনে হোল, চলে গেল তো আমার বেখেয়ালে কিন্তু আর হাহুতাশ করে লাভ কী? তার থেকে বরং বাকি সময়টুকু যা আছে তার জন্য নিজের কাজগুলোকে সেভাবে গুছিয়ে নিলে আর পরিকল্পনা করে নিলেই কাজের কাজ হয়তো কিছু হবে ইনশাআল্লাহ। এই উপলব্ধি আর পরিকল্পনা থেকেই আমার এই নোট লিখতে বসা। অন্তত সকলের সাথে শেয়ার করে আরো কিছু জানা আর কোন সংশোধন থাকলে সেই সুযোগে ঠিক করে নেওয়া।
রমজান যে কত বড় সুযোগ আমাদের সামনে আনে তা বলার অপেক্ষা রাখে না! কিন্তু যে সমস্যাটি গত বেশ কয়েক বছর ধরে দেখছি তা হলো রমাদানের সময় হঠাৎ করে রুটিন, শারীরিক, মানসিক আর নিত্যদিনের কাজকর্মের পরিবর্তনে মানিয়ে নিতে তালগোল পাকিয়ে যায়। আর আগে থেকে পরিকল্পনা না থাকলে তার অবস্থা হয় আরো ভয়াবহ! রহমতের দিনগুলো হারিয়ে যায়... রমাদান শুরুর আগে বা প্রথম থেকে অনেক পরিকল্পনাই আসে মাথায় কিন্তু শেষে যেয়ে দেখা যায় হয়েছে খুবই কম। তাই "কি কি করা যায়" এর থেকে লেখায় বেশি গুরুত্ব পাবে "কখন কিভাবে করা যায়"। লেখাটা "সেলফ রিমাইন্ডার"। এর সব সঠিক ধরার কিছু নেই, কারোর যদি আরো ভালো কোন চিন্তা থাকে বা সংশোধন থাকে তাহলে তা জরুরি ভিত্তিতে জানাবেন
যাই হোক আপাতত রমাদানের এক নিত্যদিনের সারাটা দিন কোন কাজটা কিভাবে করা যায়, তার একটা ছক এভাবে সাজানো যায়ঃ
ভোর রাতের সাহরি দিয়েই শুরু করিঃ এ একটা দারুন সময়!! অনেক সময় গড়িমসি করে দেরী করে ফেলি, তাড়াহুড়া করে সাহরী করি আর এই সময়ের মূল্যবান উপহারটা মিস করে ফেলি। তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করার একটা সুবর্ন সুযোগ থাকে এই সময়ে। সুবহে সাদিকের বা সাহরির শেষ সময়ের আগ পর্যন্ত এই সুযোগটা থাকে আমাদের হাতে। সাহরী করতে আরো একটু ৫-১৫ মিনিট (স্বাভাবিক যে সময়ে উঠি তার) আগে উঠলেই আমরা এই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারি, ইনশাআল্লাহ
সাহরির পর অনেকে ঘুম দেন আবার অনেকে জেগে থাকেন। জেগে থাকলে অন্য কোন কাজে হাত দেওয়ার আগেই কুরআনের তিলাওয়াত আর অধ্যয়নটা সেরে নেওয়া যায়। নির্ঝঞ্ঝাট এক সময় এটি। ভোরের স্নিগ্ধ মনোমুগ্ধকর পরিবেশে গলা ছেড়ে কুরআন তিলাওয়াত! সত্যি এক অসাধারণ অনুভূতি আর ঈমানী দীপ্তিকারী চেতনার সৃষ্টি করে।
আরেকটা কারণে এই সময়টাতে দ্বীনি পরাশুনাটা খুব ইফেক্টিভ। যা পড়লাম কুরআন আর হাদিস থেকে ঠিক করে নিব যেন সারাদিন তার চর্চাটা করতে পারি, নিজের আচরণে বা কাজে সারাটাদিন কুরআন/ হাদিস থেকে শিখে নেওয়া বিষয়/ নির্দেশটা প্রয়োগ করতে পারি। মনের মাঝে এই প্রতিজ্ঞা আমাদের জান্নাতের পথে এগিয়ে দিতে পারে অনেক দূর ইনশাআল্লাহ
একটা উদাহরণ দেই,
ধরুন, কুরআনে পড়লাম সুরা আন নূরের কিছু অংশ যেখানে আছে "তুমি মুমিন পুরুষদের বলো যে তারা তাদের দৃষ্টি অবনত করুক" (আয়াতঃ ৩০)। এরপর রাস্তা ঘাটে, স্কুল-কলেজ- অফিসে যেখানেই যাই না কেন এরকম পরিস্থিতির সৃষ্টির সাথে সাথেই নিজের চোখের হেফাযত করলাম আর বারবার করে মনে করলাম এই আয়াতগুলো আর তার তাফসীরের কথাগুলো।
অথবা,
পড়লাম সুরা মু'মিনুনের প্রথম অংশ, যেখানে আছে "মুমিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে, যারা নিজেদের নামাযে বিনয়-নম্র, যারা অনর্থক কথা-বার্তায় লিপ্ত নয়"
আর নামাযের সময়টাকে বা বন্ধু বা কলিগের সাথে কথা বলার সময়টাতে এর অভ্যাস গড়ে তুললাম। কথা বললাম, যা আমাদের সবারই উপকারে আসে, কোন ইফেক্টিভ উদ্যোগ নিয়ে কথা বললাম। রসিকতা করলাম কিন্তু বাধ ছাড়া হাসি ঠাট্টা নয়।
আর তিলাওয়াত করার জন্য প্রতি অক্ষরে তো ১০ নেকি + আরো রমাদান বোনাসের ৭০গুণ সাওয়াবতো আছেই... হারাবো কেন এই সুযোগ!
এভাবে ইনশাআল্লাহ, ৩০ দিনে যদি ৩০টা ইসলামী আচরণকে বা চেতনাকে আমার মাঝে আয়ত্ব করতে পারি তাহলে এক কথায় "আলহামদুলিল্লাহ"।
আজকের ছবি

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন